মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

মুক্তিযুদ্ধ ও কালীগঞ্জ

কালীগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযুদ্ধ:

  • প্রধান প্রধান বদ্ধভূমিঃ

 

ভোটমারী বধ্যভূমি

 

লালমনিরহাট জেলার সবচাইতে বড় বধ্যভুমির অবস্থান কালীগঞ্জ উপজেলায়। উপজেলার ভোটমারী রেলস্টেশন থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে হাটতে থাকলে সাত মিনিটের মাথায় চোখে পড়বে একটি মজা পুকুর। এটিই জেলার সবচাইতে বড় নৃশংসতার স্বাক্ষী। ভোটমারী বধ্যভূমি।

 

একাত্তরের উত্তাল দিনগুলোতে পাকসেনারা ভোটমারী থেকে দক্ষিনে ভাখারী নামক রেলব্রীজে বাংকার বানিয়ে অবস্থান নেয়। এলাকার কিছু মানুষও পাকবাহিনীকে বিভিন্নভাবে সহায়তা দেয়া শুরু করে।  বিভিন্ন এলাকা থেকে ধরে আনা মানুষকে গুলি না করে এখানে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যা করা হত।

 

আমাদের মুক্তিযুদ্ধের এক বেদনাময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে ভোটমারী বদ্ধভুমি আজও দাড়িয়ে আছে।

 

 

 

  • প্রধান প্রধান যুদ্ধঃ

 

 

 

 

বীর মুক্তিযোদ্ধাঃ

 

তমিজ উদ্দিন

 

শহীদ তমিজ উদ্দিন বীরবিক্রম ১৯৩১ সালের মাঝামাঝি লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার সুন্দ্রাহবী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা শায়েক উল্লাহ কবিরাজ ও মাতা তমিজন নেছা।

 

জন্ম ও শিক্ষাজীবন

ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি তাঁর ছিল গভীর অনুরাগ। মাঝে মধ্যে স্কুল পালিয়ে উধাও হয়ে ভারতের বিভিন্ন শহর ঘুরে বেড়িয়েছেন। ক্রীড়াঙ্গন, নাট্যমঞ্চ আর সমাজপ্রীতির কারণেই স্কুলের গন্ডী পেরুতে পারেননি মহান এই মানুষটি। মাত্র নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েই পড়াশুনার পাঠ শেষ করেন তিনি; জড়িয়ে পড়েন ক্রীড়া সংস্কৃতি আর সমাজসেবার কর্মকান্ডে। এসব কর্মকান্ড তাকে এতটাই প্রভাবিত করেছিল যে, ঢাকায় হোটেলে ক্যাটারীং এর চাকুরী বাদ দিয়ে ফিরে আসেন নিজ মাতৃভূমি তুষভান্ডারে। ছোটখাট ব্যবসার পাশাপাশি বন্ধুবান্ধবদেক নিয়ে মাতিয়ে তুলেন তুষভান্ডারের ক্রীড়াঙ্গন। খেলোয়ারী জীবনের পাশাপাশি ক্রীড়া সংগঠকের ভূমিকাও পালন করেন তিনি। তাঁর নেতৃত্ব ও সংগঠনে তুষভান্ডার দল পর পর কয়েকবার ‘জি এল রায় শীল্ড’ সহ বেশ কটি প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে।

 

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ

যৌবনে আনসার ট্রেনিং প্রাপ্ত তমিজ উদ্দিন ১৯৬৫ সালের পাক ভারত যুদ্ধে মুজাহিদ বাহিনীতে যোগ দেন এবং কোম্পানী কমান্ডার হিসেবে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেন।

 

১৯৭০ পরবর্তী সময়ে তিনি জনদাবীর প্রতি সম্মান জানিয়ে অবস্থান নেন স্বাধীনতার স্বপক্ষে। পঁচিশে মার্চের রাত্রিতে পাক বাহিনীর হামলায় তাড়া খেয়ে ইপিআর সুবেদার বোরহান কাকিনা ডাক বাংলোয় আশ্রয় নেন। মুক্তিকামী তমিজ উদ্দিন তার সাথে যোগাযোগ করে দুজনে মিলে স্থানীয় আনসার মুজাহিদদের নিয়ে মুক্তিবাহিনী গড়ে তুলেন এবং এদেরকে নিয়মিত ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করেন।

এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে পাক বাহিনী এই অঞ্চলে হামলা চালালে তিনি তার সহযোদ্ধাদের সহ বৃহত্তর যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য দেশ ত্যাগ করেন। মে মাসের ২য় সপ্তাহে তিনি তাঁর বাহিনীসহ কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে প্রবেশ করেন। এর অব্যবহিত পরেই নাগেশ্বরী এলাকার পাটেশ্বরীতে পাক বাহিনীর আচমকা হামলা থেকে সহযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। ১৫ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে ‘বীর বিক্রম’ উপাধিতে ভুষিত নিজে ইতিহাস হয়ে যাওয়া এই মৃত্যুঞ্জয় মানুষটি।

 

 

 

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাঃ

 

কালীগঞ্জউপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকাগেজেট নং/মুক্তিবার্তা নং/বিশেষ গেজেট নং অনুযায়ী

মোট সংখ্যা –    জন

ক্রমিক নং

ছবি

গেজেট নং/মুক্তিবার্তা নং/বিশেষ গেজেট নং

বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম

পিতার নাম

গ্রাম

ইউনিয়ন/ পৌরসভা

মোবাইল নং